ইভ্যালির সেলিম রেজাসহ ১০ জনের জামিন দেননি হাইকোর্ট!

আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ(নটপ্রেস রিজেক্ট)করেছেন হাইকোর্ট।

শনিবার (২ অক্টোবর) জামিন আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান আসাদ বিষয়টি কোর্ট নিউজ টোয়েন্টিফোর কে নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ তাদের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে আদেশ দেন।

আদালতে ওইদিন জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান আসাদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির চেয়ারম্যান রাসেল ও তার স্ত্রীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক কামরুল ইসলাম। তিনি ইভ্যালির পণ্য সরবরাহকারী ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪২ টাকার পণ্য সরবরাহ করেন। কিন্তু ইভ্যালি এসব পণ্যের অর্থ পরিশোধ করেনি। এ ব্যাপারে একাধিকবার ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছে ইভ্যালির দেনা বেড়ে এক হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এমন তথ্য দিয়েছেন। রেপিড একশন ব্যাটালিয়ন জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, গত ফেব্রুয়ারিতেও এই দেনার পরিমাণ ছিল ৪০৩ কোটি টাকা। গ্রাহকের এই টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, RAB এর জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। সর্বশেষ দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল রাসেলের।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- ইভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (কমার্শিয়াল) জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্ট শাখার কর্মী সোহেল, আকিবুর রহমান তুর্য, সিইও’র পিএস রেজওয়ান ও বাইক ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা সাকিব রহমান। পরে এই ১০ আসামি হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

মামলার এজাহারে কামরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি মেট্রো কভারেজ, স্মার্ট ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রিডম এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিডি ও ফিউচার আইটি নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার পণ্য সরবরাহ করেছেন। পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ইভ্যালি তাদের একটি চেক দিলেও সেই অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তারা ইভ্যালির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় একটি জিডিও (নং ৭০৬) দায়ের করেন। তবু ইভ্যালি তাদের কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি।

এর আগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় এক গ্রাহকের মামলা দায়েরের পর ওইদিন বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে RAB!

scroll to top