বিক্ষোভের মুখেও সভাপতির চেয়ারে বসলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট এ.এম আমিনুদ্দিন

অবশেষে তৃতীয়বারের মতো সভাপতির চেয়ারে বসলেন বর্তমান এটর্নি জেনারেল সিনিয়র এডভোকেট এ. এম.আমিনুদ্দিন। নানা চড়াই-উৎরাই শেষে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির চেয়ার অলংকৃত করলেন। গত কিছুদিন যাবত হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে সরকার পন্থী আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে বাদানুবাদ ও মহড়া চলছিল। তিনি সভাপতির চেয়ারে বসার কিছুক্ষণ আগে ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আমিনুদ্দিন কটাক্ষ করে স্লোগান দিতে থাকে, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা স্লোগানে পাল্টা উত্তর দিতে থাকলে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আজ (৬ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সমিতি ভবনে সভাপতির কক্ষে নির্ধারিত চেয়ারে বসেন তিনি। সভাপতি পদ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলমান মিছিল-অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে এর আগেও সভাপতির কক্ষে তিনি এসেছেন। তবে আজ আনুষ্ঠানিকভবে এই চেয়ারে বসলেন।এ বিষয়ে আওয়ামী প্যানেল থেকে নির্বাচিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার সাফায়েত রুমি কোর্ট নিউজ ২৪ কে বলেন,' বিকেল ৩টার দিকে অ্যাটর্নি জেনারেলএ এম আমিন উদ্দিন স্যার সভাপতির কক্ষে এসেছিলেন এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির চেয়ারে বসেছেন এবং আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি। এ সময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।'

তবে এ বিষয়ে বিএনপির প্যানেল থেকে নির্বাচিত সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া না গেলেও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম সজল এ প্রসঙ্গে বলেন- এই ঘটনাটি সুপ্রিমকোর্ট বারের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল তথা রাষ্ট্রের আইনজীবীদের অভিভাবক হয়েও এই ধরনের গর্হিত কাজ করলেন যা বার ও আইনজীবিদের জন্য লজ্জাস্কর।

উল্লেখ্য যে- গত ৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের নাম ঘোষণা করে কার্যনির্বাহী কমিটির আওয়ামীপন্থি অংশ। তারা দাবি করেছেন সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় এ এম আমিন উদ্দিন কণ্ঠ ভোটে সভাপতি হয়েছেন।সুপ্রিম কোর্ট বারের প্যাডে এক বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা বলেন, তার সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সমিতির সভাপতি পদে এ এম আমিন উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করলে উপস্থিত সদস্যরা করতালি ও কণ্ঠভোটে তার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। এ এম আমিন উদ্দিনকে ২০২১-২২ মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় সেখান থেকে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ এম আমিন উদ্দিন সভাপতি পদে ২০২১-২০২২ মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আওয়ামীপন্থি প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমিতির সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যাসহ ৭ জন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য একমত পোষণ করে স্বাক্ষর করেন। অবশ্য বিএনপিপন্থি প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের ছয় সদস্য এতে স্বাক্ষর করেননি।সমিতির প্যাডে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ মে আহুত বিশেষ সাধারণ সভা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়।আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে সভাপতি নির্বাচনে করণীয় ঠিক করতে গত ৪ মে বিশেষ সাধারণ সভার আহ্বান করা হয়। সভার শুরুতে সাধারণ সভার সভাপতিত্ব নিয়ে আওয়ামী এবং বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। এ অবস্থায় সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘোষণা দেন, বারের সংবিধান অনুযায়ী আমি এ সভা পরিচালনা করব। তখন এক পক্ষ বিরোধিতা শুরু করলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা ডায়াসে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন তিনি সভার সভাপতিত্ব করবেন। তখন ব্যারিস্টার কাজল বলেন, উনার সভাপতিত্ব করার কোনো কার্যবিবরণী পাস হয়নি। সিনিয়র আরেকজন সহসভাপতি আছেন। তখন শফিক উল্ল্যা বলেন, আমি আজকের সভার সভাপতি। এই সভা থেকে ঘোষণা করছি, আজ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন। তখন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা তাকে সমর্থন দেন। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করতে থাকেন। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন কণ্ঠ ভোট নয়, নির্বাচন চাই। এক পর্যায়ে মিলনায়তনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। মঞ্চের ওপর ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।তখন সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাধারণ সভা করার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি না থাকায় সভা মুলতবি করা হলো। তুমুল হট্টগোলের মধ্যে দিয়ে বিশেষ সাধারণ সভাটি শেষ হয়।

  ্

scroll to top