জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালন নিয়ে আদেশ মঙ্গলবার

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি শেষে সোমবার (১২ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ আদেশের জন্য মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দিন রেখেছেন।আদালতে এদিন আবেদনকারী জিয়াউল হক মৃধার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম সাঈদ আহমেদ রাজা। জি এম কাদেরের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভেকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে ৪ অক্টোবর জাপা থেকে বহিষ্কৃত নেতা দলটির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেন। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত ‘১ নম্বর প্রতিপক্ষ (জি এম কাদের) ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বরের গঠনতন্ত্রের আলোকে পার্টির কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে পারে এবং কোনো কার্য গ্রহণ করতে না পারে সে মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার’ আদেশ দেন।পরে এ আদেশ প্রত্যাহারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের আবেদন ১৬ নভেম্বর খারিজ করে দেন একই আদালত।

এ খারিজাদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মিস আপিল করেন জি এম কাদের। জেলা জজ এ আবেদন শুনানির জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। পরে শুনানির আদেশ এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করলে ২৪ নভেম্বর জেলা জজ আদালত সেটিও খারিজ করে দেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করেন জি এম কাদের!পরে গত ২৯ নভেম্বর শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৩০ অক্টোববের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে রুল জারি করেন।

এরপর জিয়াউল হক মৃধা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। তার ধারাবাহিকতায় আজ আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বিবাদী জি এম কাদের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকার পরও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিল করে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন।

৫ মার্চ গাজীপুর মহানগর কমিটির উপদেষ্টা আতাউর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর শিকদার, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক রফিকুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মো. আজিজকে বহিষ্কার করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর বাদী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেন। অন্যদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাকেও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করেন, যা অবৈধ।

scroll to top