শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল খারিজ, তদন্তে বাধা নেই

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলার তদন্ত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোববার (২৭ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এ মামলার তদন্ত কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে শহিদুল আলমের রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছিলেন।নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাচালে ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় পরদিন ৬ আগস্ট তাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। একইদিন সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।

পরে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন।এর পাঁচ দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি। ওই বছরের ৩ অক্টোবর এ জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। ৭ অক্টোবর রুল জারি করেন। সেই রুল মঞ্জুর করে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর হাইকোর্ট এ মামলায় তাকে জামিন দিয়েছিলেন।

পরে মামলার তদন্ত নিয়ে শহিদুল আলম হাইকোর্টে আবেদন করেন। ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ মামলটির তদন্ত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। যে রুল গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের মার্চ মাসে লিভ টু আপিল করেন শহিদুল আলম, যা গত ১৩ এপ্রিল চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন আদালত লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি শেষে তা খারিজ করেন আপিল বেঞ্চ।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট রমনা থানায় এ মামলা হয়। এ মামলায় ১০৭ দিন কারাভোগের পর একই বছরের ২০ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

scroll to top