পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ চ্যালেঞ্জ করে রিটের শুনানি আজ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কোন কর্তৃত্ববলে পদে আছেন তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া রিটের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে আজ রোববার (২০ নভেম্বর)।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিকেলে শুনানি হওয়ার জন্যে ধার্য রয়েছে!এর আগে ১৪ নভেম্বর এ বিষয়ে আরও শুনানির জন্য আজ রোববার (২০ নভেম্বর) দিন ঠিক করেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। ওইদিনই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কোন কর্তৃত্ববলে পদে আছেন তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়ে।

আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ ও অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন রাশেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ও সামসুন নাহার লাইজু।শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দিয়ে শপথ ভঙ করেছেন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মূলত পাবলিসিটির জন্য তারা এ রিট করেছেন। তখন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের জন্য রিজয়েনডার দিয়েছেন। বলেছেন, তিনি এ ধরনের বক্তব্য দেননি। গণমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে। তখন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে তার বক্তব্যের সপক্ষে কাগজপত্র (নথি) দাখিল করার নির্দেশ দেন। এরপর রিট শুনানি মূলতবি করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. এরশাদ হোসেন রাশেদ। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবাদী করা হয়।

একই অভিযোগে গত ২১ আগস্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন ওই আইনজীবী। নোটিশের পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট আবেদন করেন তিনি।নোটিশে আইনজীবী রাশেদ বলেন, ১৯ আগস্ট বিকেলে গণমাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতবিষয়ক বক্তব্যের তথ্য পান।

১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি। আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’

নোটিশে আরও বলা হয়, এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) তার শপথ ভঙ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার এ বক্তব্য সার্বভৌমত্বকে আঘাত করেছে। তাই নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনজীবী এরশাদ হোসেন রাশেদ বলেন, এই নোটিশের পরও পদত্যাগে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হাইকোর্টে রিট করেছি।

scroll to top