যে কারণে পরীমনিকে ফের রিমান্ডে চায় সিআইডি!

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় কারাবন্দি ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে ফের ৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তাফা উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের শেষ দিকে আসামি মামলার ঘটনা ও ঘটনার নেপথ্যে মূল হোতাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মাদক মজুত, উদ্ধারসহ ব্যবসার পেছনে অর্থের যোগানদাতাদের খুঁজে বের করতে পুনরায় তার ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।আসামিকে রিমান্ডে পাওয়া গেলে মাদক ব্যবসায়ী মূল হোতাদের গ্রেফতার, মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎসসহ অপরাধলব্ধ আয়ের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে।’

বুধবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালতে তার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, পরীমনির ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।তখন বিচারক বলেন, যেহেতু তার রিমান্ড আবেদন আছে সেহেতু আইনগতভাবে জামিন শুনানি হয় না। এরপর পরীমনির আইনজীবী জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। বৃহস্পতিবার পরীমনির জামিন আবেদন করবেন বলে জানান আইনজীবী মুজিবুর রহমান।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে ইতোপূর্বে আদালতের আদেশে পুলিশ রিমান্ডে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য দিয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে মাদক ব্যবসায়ী মূল হোতাদের গ্রেফতার, মাদকদ্রবের মজুত উদ্ধারসহ ব্যবসার পেছনে অর্থের যোগানদাতাদের খুঁজে বের করতে পুনরায় তার ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।সোমবার (১৬ আগস্ট) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) রেজাউল করীম চৌধুরীর আদালতে আইনজীবী মজিবুর রহমান পরীমনির জামিন আবেদন করেন। পরে শুনানির জন্য আদালত বুধবার দিন ধার্য করেন।

গত ১৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ছয়দিনের রিমান্ড শেষে পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা।

এ সময় আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয়। পরীমনির ড্রয়িংরুমের কাভার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম, বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে তার বাসা থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে গাড়িটি কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদরদফতরে পৌঁছায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে র‌্যাব সদরদফতর থেকে পরীমনি, রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে নিয়ে বনানী থানার উদ্দেশে রওনা দেয় র‌্যাবের একটি টিম।

এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী বিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় করে। মামলার পর রাত ৮টা ২৪ মিনিটে পরীমনি ও তার সহযোগীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলায় তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

একইদিন ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। এরপর সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় গত ১০ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। তিনি বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ করতেন এবং পার্টিতে অংশ নিতেন।পরীমনি ২০১৪ সালে সিনেমা জগতে আসেন। এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও পাঁচ-সাতটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। প্রযোজক রাজ তাকে পিরোজপুর থেকে ঢাকায় সিনেমা জগতে নিয়ে আসেন।

scroll to top