রাজীব মীরের চাকরিচ্যুতি অবৈধ, পরিবারকে পাওনা দেওয়ার নির্দেশ!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রয়াত মীর মোশারেফ হোসেনকে (রাজীব মীর) বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে রাজীব মীরের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সব পাওনা বেতন-ভাতাদি অবিলম্বে পরিশোধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাওনা বাবদ প্রাপ্ত অর্থ তার স্ত্রী ও সন্তানকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে।এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও মো. ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে এদিন প্রয়াত রাজীব মীরের স্ত্রী সুমনা খানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী মাঈনুল হাসান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নাসিম ইসলাম রাজু।হাইকোর্টের রায়ের বিষয়টি শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কোর্ট নিউজ টোয়েন্টিফোরকে নিশ্চিত করেন প্রয়াত রাজীব মীরের স্ত্রী সুমনা।

২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেন। তার আগে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই ৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় সহযোগী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেনকে (রাজীব মীর) বরখাস্ত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।রিটে বলা হয়, অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্টের কোনো কপি তাকে সরবরাহ করা হয়নি। এর ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাক্ষ্য প্রমাণ সম্পর্কে তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত না করেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বেআইনি ও অবৈধ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। একইসঙ্গে এই শিক্ষককে কেন জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা ও বকেয়া সব বেতন-সুবিধাসহ স্বপদে পুনর্বহাল করা হবে না, রুলে তাও জানতে চান আদালত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এর পর ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর মীর মোশাররফ হোসেনকে (রাজীব মীর) বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে রুলের শুনানি শুরু হয়।

রাজীব মীরের স্ত্রী সুমনা খানকে রিটে পক্ষভুক্ত করেন হাইকোর্ট। ওই দিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নাসিম ইসলাম রাজু বলেছিলেন, অধ্যাপক মীর মোশাররফ হোসেন (রাজীব মীর) মারা যাওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর তার স্ত্রী সুমনা খান রিটে পক্ষভুক্ত হন।

আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক সেদিন বলেন, রুল শুনানি শেষে হাইকোর্ট যদি রাজীব মীরকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন, সেক্ষেত্রে স্ত্রী হিসেবে সুমনা খান ও তার সন্তান তার চাকরির সব আর্থিক সুযোগ সুবিধা পাবেন।

এছাড়া প্রয়াত শিক্ষক রাজীবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে তার পরিবারের জন্য এটা সন্তুষ্টির কারণ হবে। এর পর ওই রুলের শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন।

ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৮ সালের ২১ জুলাই মারা যান রাজীব মীর (৪৩)। বিভোর নামের এক কন্যা সন্তানের জনক রাজীব মীরের লিভার সিরোসিস হয়েছিল। অধ্যাপক রাজীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করেন। তিনি কবিতা লেখা ছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন।

scroll to top