‘নিজেদের প্রয়োজনেই রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হবে’-মোখলেসুর রহমান বাদল

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান বাদল বলেছেন, শুধু কি রাষ্ট্র একা সবকিছু করতে পারবে। রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হবে এবং সেটা নিজেদের প্রয়োজনেই।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাধারণ জনগণের আইনের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন (এলকপ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।গত সোমবারের এ অনুষ্ঠানে মোখলেসুর রহমান বাদল বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন দেখলাম আমরা। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার করা যাবে না, এমন আইনও এদেশে করা হয়েছিল। খুনিদের রক্ষার জন্য সংবিধানে কাটাছেঁড়া করা হয়েছিল। প্রণীত হয়েছিল ইনডেমনিটি বিল (ইনডেমনিটি অডিন্যান্স)।

তিনি বলেন, আমরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রগতির সবচেয়ে উন্নত জায়গা। আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হচ্ছে? সেখানে নাটক, গান হবে। সে চর্চাগুলো কমে যাচ্ছে। অতীতে সেখানে কী সুন্দরভাবে প্রগতির আন্দোলন হতো। সেখানে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের কথা বলা হতো। মানবিকতার কথা বলা হতো।তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভ। সেই স্বাধীনতাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শেখ হাসিনার ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত, রোকেয়া কবির, অজয় দাশগুপ্ত, অধ্যাপক ডা. মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, কাজল দেবনাথ এবং অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।এতে স্বাগত বক্তব্যে এলকপের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল এলকপের দীর্ঘ ২২ বছরের পথচালা এবং মানবাধিকার নিয়ে সামার স্কুল, পথ আইন (স্ট্রিট ল’) এবং কমিউনিটি সংক্রান্ত আইন সংস্কারের মতো উদ্যোগ সম্পর্কে তুলে ধরেন।

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ প্রকল্পের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অর্পিতা শামস মিজান। তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ১৮ মাসব্যাপী গবেষণা প্রকল্পটির রূপরেখা দেন।প্রেজেন্টেশনের পর বিশিষ্ট আলোচকেরা প্রকল্প এবং ধারণাপত্র সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। রোকেয়া কবির অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে লিঙ্গভিত্তিক এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার কথা তুলে ধরেন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও পরিবার উভয়ের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া এলকপের মানবাধিকার উদ্যোগ এবং সাফল্য সম্পর্কে বলেন এবং কীভাবে এ প্রকল্পটি সাধারণ মানুষের জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চলমান লড়াইকে আরও প্রভাবিত করবে, সেসব কথা উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল মানবাধিকারের ওপর গণ মানস এবং গণ মতামত নথিভুক্ত করার ওপর জোর দেন। কাজল দেবনাথ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে কথা বলেন এবং এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধের ওপর জোর দেন।

অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, সম্ভাব্য দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ আসন্ন। বিরোধীদের মোকাবিলা করার জন্য এ ধরনের প্রকল্পগুলোর প্রয়োজন হবে।

অ্যারোমা দত্ত এলকপকে তাদের গণহত্যা বিষয়ক পাঠ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার পাঠের ওপরে গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান।অ্যারোমা দত্ত এলকপকে তাদের গণহত্যা বিষয়ক পাঠ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার পাঠের ওপরে গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান।

এলকপ সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এলকপের লক্ষ্য এবং তার স্বপ্ন হলো একদল দ্রোহী আইনজীবী তৈরি করা, যারা সাধারণ মানুষ এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কাজ করবেন।

scroll to top